in

কার স্বার্থে ব্যাংক বেসরকারিকরণ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন

মুষ্টিমেয় কিছু ধনী শিল্পপতিদের হাত থেকে দেশের অর্থনীতি আম জনতার উন্নতি কল্পে ব্যবহারের জন্য ব্যাংক
জাতীয়করণ হয়েছিল। তার ফল সাথে সাথে পাওয়া গিয়েছিল দেশের বিকাশ দরের উন্নতির মাধ্যমে।

ব্যাংক জাতীয়করণ দেশের সামগ্রিক উন্নতির জন্য, সকল দেশবাসীর কল্যাণের জন্য। ব্যাংক বেসরকারিকরণ সাধারণ
দেশবাসীর জন্য বা ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিকাঠামোর উন্নতির জন্যে নয় | দেশের জনসাধারণের অধিকাংশই সাধারণ
খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের আশা ভরসা, বিশ্বাসের জায়গা সরকারি ব্যাংক কারণ জাতীয়করণের পর একটিও জাতীয়
ব্যাংক সমস্যার সম্মুখীন হয়নি।উল্টোদিকে 1991 সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত 38 টি বেসরকারি ব্যাংক বন্ধ হয়েছে।
সরকারের এই বেসরকারিকরণের নীতি ভারতবর্ষকে 1969 সালের আগে পৌছে দেবে যে সময় মহাজন প্রথার প্রধান
লক্ষ্যই ছিল সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের শোষণ করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করা।

 

করোনা অতিমারীর পর ভারতীয় অর্থনীতি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার উপর এই ব্যাংক বেসরকারীকরণের নীতি
কর্মী ছাঁটাই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত এবং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করবে। এর সাথে জড়িত রয়েছে দেশের
বর্তমান যুবসমাজের প্রভূত ক্ষতি। স্থায়ী পদে লোক নিয়োগ না করে দমন, পীড়ন, শোষণের রাস্তা প্রশস্ত করতে ও
কম বেতনে কাজ করানোর জন্য অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ চলছে।

ব্যাংক বেসরকারীকরণের পিছনে রয়েছে কিছু মুষ্টিমেয় পুঁজিবাদীদের স্বার্থসিদ্ধি। সাধারণ মানুষকে ব্যক্তি মালিকানাধীন
ব্যাংকিং সুবিধা পেতে গেলে ব্যয় করতে হবে উচ্চ মুল্য। বর্তমানে সমস্ত সরকারী ব্যাংক গুলি মুনাফা করছে এবং
সরকারকে ডিভিডেন্ড ও ট্যাক্স দিচ্ছে কিন্তু তাতেও সরকার মিথ্যে আর্থিক উন্নতির দোহাই দিয়ে ব্যাংক গুলির
বেসরকারীকরণে মনোনিবেশ করেছেন।

সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থার অনাদায়ী সম্পদ নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এই ইচ্ছাকৃত ঝণ
খেলাপিদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইনানুগ ব্যবস্থা লক্ষ্যনীয় নয়।

সরকার এই সরকারি ব্যাংকগুলোকে এখন খণ খেলাপি পুঁজিবাদীদের হাতে তুলে দেবার চেষ্টা করছেন যাদের প্রধান
লক্ষ্যই শুধুমাত্র মুনাফা অর্জন। ব্যাংকিং পরিষেবার গুণগত মানের পর্যালোচনা এবং সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের
কাছে এই পরিষেবা সঠিক ভাবে পৌছচ্ছে কিনা তা তাদের আলোচ্য বিষয় নয়।

যদিও সরকারি ব্যাংক শুরু থেকে কোনো দিন দেউলিয়া হয়নি তথাপি অনেক বেসরকারি প্রতিপক্ষ সংস্থার দরজা বন্ধা
হওয়ার দায় সরকারি ব্যাংকগুলোকে নিতে হয়েছে। ডুবে যাওয়া বেসরকারী ব্যাংক , ডুবে যাওয়া বেসরকারি সংস্থা,
ইচ্ছাকৃত বড় বড় শিল্পপতিদের অনাদায়ী লোন ই সরকারি ব্যাংকের সমস্যার কারণ।

সরকারী ব্যাংক সরকারি সম্পত্তি। এই সম্পত্তি বিক্রি করে দেশের যুবসমাজ কে অর্থনিতির পরাধীনতার কবলে
ফেলতে দেশবাসী রাজী নয়।

তাই আজ ব্যাংক কর্মচারী সহ দেশবাসী আন্দোলনরত।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন গুলো বিভিন্ন ভাবে আন্দোলন করছে।কেউ সোশ্যাল মিডিয়া তে,কেউ
বাস যাত্রা করে, কেউ পথসভা, গ্রামসভা করে মানুষকে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে অবহিত করছে।

গত রবিবার ব্যাংকিং ইউনিয়নের সংযুক্ত মোর্চার আহ্বানে টুইট প্রচার বিশাল সাড়া জাগিয়ে টুইটার ইতিহাসে
সর্বকালীন রেকর্ড গড়েছে।তাদের টুইট %10111079719107079916 প্রায় 3 ঘণ্টা ধরে শীর্ষে ছিল |

আগামী দিনেও আন্দোলনের মাত্রা আরো বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত
সংস্থার নেত্রীবৃন্দ ও ব্যাংকের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছে।

 

Disclaimer: This is a company press release. No CK journalist is involved in creating this content

What do you think?

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published.

GIPHY App Key not set. Please check settings

Loading…

0

Byomkesh Hotyamancha Teaser : ফের সত্যান্বেষী হয়ে ফিরছেন আবির, মুক্তি পেলো ‘ব্যোমকেশ হত্যামঞ্চ’র টিজার

Antarjal trailer: নিখোঁজ স্বামীর সন্ধানে কৌশানি, মুক্তি পেলো ‘অন্তর্জাল’ ছবির ট্রেইলার