২০১৯ এর কিছু উল্লেখযোগ্য বাংলা সিনেমা

 

নগরকীর্তন – কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের এই ছবি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। বছরের প্রথম দিকে সিনেমাহলে মুক্তি পায় ‘নগরকীর্তন’। মধু ও পুটির প্রেমের গল্প। মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দকে সবসময়ই সমাজ তার মাপকাঠিতে তুল্যমূল্য বিচার করে এসেছে। ‘নগরকীর্তন’ সেই বদ্ধমূল ধারণা থেকে সরে গিয়ে পরিবর্তনের দিশারী। মুক্তির পর বহুল প্রশংসিত হয়েছিল ঋদ্ধি সেন ও ঋত্বিক চক্রবর্তী অভিনীত এই ছবি। বক্সঅফিসেও সাফল্য পায় অ্যাক্রোপলিস এন্টারটেনমেন্ট প্রযোজিত ‘নগরকীর্তন’।

রাজলক্ষী ও শ্রীকান্ত

প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যের এই ছবি এ বছরের উল্লেখযোগ্য ইভেন্ট বলা চলে। হল না পাওয়া, পরে তা পেলেও শর্তসাপেক্ষে, কার্যত হাতে গোনা ছিল সিনেমা হলের সংখ্যা। সাতদিনের ব্যবধানে মোটামুটি মুখের কথাতেই হলে পৌঁছে যান দর্শক। সমালোচনার নিরিখে প্রথম সারিতে জায়গা করে নেয় ঋত্বিক-জ্যোতিকার ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’। শরৎসাহিত্যের মায়াজাল ছিঁড়ে এ ছবি অসহিষ্ণু সময়ের কথা বলে। শুধুমাত্র রাজলক্ষ্মী, শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ ও অন্নদা চরিত্রের নির্যাসটুকু মাথায় রেখে বড়পর্দায় স্বতন্ত্র কাহিনি বুনেছেন পরিচালক।

জ্যেষ্ঠপুত্র

– ছবিটিকে খুব গুছিয়ে বানিয়েছেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ৷ গল্পের মধ্যের আরেক গল্পকেই খুব সুক্ষ্নভাবে তুলে এনেছেন প্রতিটি দৃশ্যে৷ তাই তো আপতদৃষ্টিতে দুই ভাইয়ের টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে প্রছন্নভাবে ঢুকে পড়ে এক সুপারস্টার ও আরেক ছাপোষা নাটকের অভিনেতার ‘ইগো’র সংঘর্ষ ৷ যা কিনা সংলাপের প্রতিটি লাইনে লাইনে ধরিয়ে দেন কৌশিক ৷

কেদারা – 

কেদারা’ দিয়েই ছবি পরিচালনায় হাতেখড়ি সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর। পরিত্যক্ত এক মানুষের জীবনকাহিনি। একাকীত্ব কাটাতে প্রিয়জনদের গলা নকল করে নিজের সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যান তিনি। এক প্রান্তিক মানুষের নিজেকে ভাল রাখার আশ্চর্য এক চিত্রনাট্য। এই মানুষটির জার্নির সঙ্গেই অদ্ভুতভাবে জুড়ে যায় কেদারা। জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চে বিশেষ জ্যুরির সম্মান পায় এই ছবি। বক্সঅফিস মুখ ঘুরিয়ে নিলেও সমালোচক মহলে বহুল প্রশংসতি ছবি ‘কেদারা’।

ঘরে বাইরে আজ:

 

রবীন্দ্রনাথের ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসকে ভিত্তি করে অপর্ণা সেন বর্তমান সমাজের প্রেক্ষাপটে তৈরি করেছেন ‘ঘরে বাইরে আজ’। তিন দশকের বেশি পার করে সেলুলয়েডে ফেরা এই ছবি সত্যজ‌ি‌ৎ রায়ের ‘ঘরে বাইরে’ ছবির রিমেক কিন্তু নয়। পরিচালকের অভিনবত্ব এই ছবির ইউএসপি। বক্সঅফিসে প্রত্যাশিত ফল করেছে যিশু-তুহিনা-অর্নিবাণের রসায়ন। বহমান সময়, বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া সময়, গণহত্যা, গণঅভ্যুত্থান – ইতিহাসের এই সাদা-কালো মাইলফলকগুলি সেলুলয়েডে ধরতে চেয়েছেন অপর্ণা সেন।

 

গুমনামী – পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘গুমনামী’ রিলিজ এ বছরের মেগা ইভেন্ট। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে তৈরি এই ছবি ঘিরে বিতর্ক কম হয়নি। নানা আইনি জটিলতা পেরিয়ে বক্সঅফিসে অবশেষে মুক্তি পায় গুমনামী। প্রথমদিন থেকেই ছক্কা হাঁকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অভিনীত ছবিটি। সৃজিতের ছবিতে অভিনয়ের মান, বা শিল্পভাবনা, বা ডিটেলিং নিয়ে নতুন করে কিছু বলার থাকে না। ছবি মুক্তির আগে নেতাজীর ভূমিকায় প্রসেনজিতের ‘লুক’ নিয়ে কৌতূহল ছিল তুঙ্গস্পর্শী। সেই নিরিখে নিরাশ হননি দর্শক, সত্যিই আশ্চর্যরকম মানিয়েছিল তাঁকে, সঙ্গে ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ অভিনয় এবং শরীরী ভাষা।

হরি ঘোষের গোয়াল:

পীযূষ সাহার নতুনদের নিয়ে এই প্রচেষ্টা আমরা বিগত দু-দশক দেখে এসেছি । এবারও তার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে ।যার মূল বিষয়বস্তু ছিল শ্রী চৈতন্য আদর্শ ছাত্রাবাস- হস্টেলের নাম। এখানেই থাকে ছাত্ররা। নিয়মের বাড়বাড়ন্তে প্রাণ ওষ্ঠাগত তাদের। মেয়ে বন্ধু, কোনও রকম নেশা করা সব বারণ, গ্রাম কিংবা মফঃস্বল থেকে ছেলে-মেয়েরা শহরে আসে আশা পূরণ করতে। উচ্চশিক্ষা লাভ করে জীবনে সফল হতে। অচেনা শহরে তাদের ভরসার জায়গা হস্টেল।হস্টেলে এসে তাদের বিগড়ে যাওয়ার মধ্যেই এক অলৌকিক নারী এসে কীভাবে তাদেরকে সঠিক পথ দেখায় সেটিই ছবির বিষয়বস্তু ।এই  ছবিতে খুব ভালো একটি সামাজিক মেসেজ দেওয়া হয়েছে ।যেটি দর্শকের নজর কেড়েছে।

কিয়া ও কসমস – অটিজিমে আক্রান্ত এক মেয়ে বদ্ধপরিকর, বন্ধু বিড়ালের মৃত্যু রহস্য উদঘাটন করবে সে। সেই সন্ধানের রাস্তাতেই জানতে পারে তার বাবা মৃত নয়, জীবিত। সুতরাং, শুরু হয় বাবাকে খোঁজার অভিযান। সেই কিয়া আর তার কসমসকে (বিড়াল) নিয়ে তৈরি ছবি।

মহালয়া – মহালয়ার সকালে আকাশবাণীর পৌঁছে দেওয়া বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রর স্তোত্রপাঠ না শুনলে আজও বাঙালির মনে হয় না পুজো এল। কিন্তু বহু বছর আগে এক পুজোয় মহালয়ার সকালের অনুষ্ঠানে তার জায়গায় আনা হয়েছিল, বাঙালির একমাত্র মহানায়ককে। উত্তমকুমারকে। কার মাথায় এমন ভাবনা উদয় হল, উত্তমকুমার কেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণর জুতোয় পা গলালেন, ফলটাই বা কী হল, তা নিয়ে সৌমিক সেনের ছবি ‘মহালয়া’।

 

ভিঞ্চিদা – গল্পের কথক ভিঞ্চিদা নিখুঁত প্রস্থেটিক মেকআপ আর্টিস্ট হয়েও বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করার সুযোগ পায় না। বিতাড়িত হতে হতে হয়ে পড়ে কোণঠাসা। পাড়ার নাটকের দল আর বিয়ের কনের মেকআপ করে সন্তুষ্ট হতে হয় তাকে। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রতি জমা হয় ক্ষোভ। স্বপ্ন দেখে ইতালীয় রেনেসাঁ যুগের লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মতো সে-ও আঁকবে মোনালিসা। প্রেমিকা তার মোনালিসার মডেল। ঠিক এ রকম এক অবস্থায় আদি বোস খুঁজে বের করে ভিঞ্চিদাকে। প্রস্তাব দেয় ফিল্মের জন্য প্রস্থেটিক মেকআপ করার। ভিঞ্চিদা খুশিতে ডগমগ। রাজি হতে দেরি হয় না তার। কিন্তু একি! একটা ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে সে। একটার পর একটা ‘ক্রাইম’ সংঘটিত হতে থাকে। শুধু শিল্পী হয়ে বেঁচে থাকা আর সম্ভব নয়। ফেরার পথ নেই। চুরমার হয় তার সত্তা।

 

 

 
Likes:
1 1
Views:
381
Article Categories:
Tollywood NewsTop Stories

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

PHP Code Snippets Powered By : XYZScripts.com