মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত কুইজ কার্নিভাল সিজিন -৪ অনুষ্ঠিত হলো

মেদিনীপুর কুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি আয়োজিত কুইজ কার্নিভাল সিজিন -৪ অনুষ্ঠিত হলো গত শনি ও রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মেচেদার পি. ডাবলু. ডি মাঠে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় 350 জন কুইজ প্রতিযোগী এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। শুধু কুইজ নিয়ে কুইজপ্রেমীদের এমন একটা পাগলামি দুই জেলাতে তথা এরাজ্যে এই প্রথম বার। গত ২ ও ৩ নভেম্বর ২০১৯ কুইজের মহারণ কুইজ কার্নিভাল সিজন-৪ শেষ হল। কার্নিভাল টি ছিল একেবারে অন্য মাত্রায় । বিগত তিনটি কুইজ কার্নিভাল ছিল একেবারে চার দেওয়ালের মধ্যে। এবার তা সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায় । শুধুমাত্র সাধারণ কুইজ নিয়ে সীমাবদ্ধ ছিলো না। এই প্রথম বার খোলা মঞ্চে পাঁচ ধরনের কুইজ যেমন, সাধারন কুইজ, স্পোর্টস কুইজ, পরিবেশ কুইজ, কিডস কুইজ আর মহিলাদের জন্য ছিল আমি অদ্বিতীয়া । কুইজ পরিচালনা করেন বাংলার বিখ্যাত কুইজ মাস্টার যেমন, গায়ক সিধু, রাজীব সান্যাল, অভিজিৎ সুকুল, সোমনাথ চন্দ ,পবিত্র মুখোপাধ্যায়, মৌসম মজুমদার, কৃষ্ণ প্রসাদ ঘড়া, সৌগত কান্ডার সহ 15 জন সেরা কুইজ মাস্টার। মহিলাদের জন্য আমি অদ্বিতীয়া সঞ্চালনা করেন অভিনেত্রী অনিন্দিতা সরকার ও শুভময় মজুমদার। এর পাশাপাশি ছিল দুই জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তি যারা জেলা, রাজ্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের কাজের জন্য বিশেষভাবে জায়গা করে নিয়েছেন এমন কয়েকজন মানুষদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা পদ্মশ্রী করিমুল হক ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলাশাসক শ্রী পার্থ ঘোষ । এদিন মেদিনীপুর ক্যুইজ কেন্দ্র সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নিজস্ব রীতি অনুযায়ী তালগাছের বীজ লাগিয়ে ও মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী আগত অতিথিদের গাছের চারা দিয়ে ও সবংয়ের মাদুর কাঠি দিয়ে তৈরি ব্যাচ পরিয়ে বরণ করা হয়।এছাড়া সমস্ত অতিথিদের উপহার হিসেবে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা খ্যাত গহনা বড়ি সবার হাতে তুলে দেয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলার গর্ব সন্মানে সম্মানিত করা হয় আনন্দ পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক শ্রী নলিনী বেরা-কে। “মেদিনীপুর রত্ন” সম্মানে সম্মানিত করা হয় বিজ্ঞানী ডঃ শান্তনু ভৌমিককে যিনি ভারতীয় সেনা বাহিনীর জন্য হালকা বুলেট প্রুফ জ্যাকেট আবিষ্কার ও বর্জ্য প্লাস্টিক থেকে টাইলস তৈরি করেছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জিমন্যাস্ট প্রণতি নায়েক, এশিয়াটিক সোসাইটির পুঁথি গবেষক শ্রী অশেষরঞ্জন মিশ্র, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শ্রী সাধন মাইতি যিনি সামান্য বাটসাবান বিক্রেতা থেকে আজ সেনকো গোল্ড এর সাতটি ফ্রাঞ্চাইজির মালিক, গিনেস বুকে রেকর্ডকারি মাইক্রো আর্টিস্ট শ্রী প্রসেনজিৎ কর যিনি পেন্সিলের শীষের উপর দুর্গা প্রতিমা তৈরি করেছেন , ইনাদের সম্মানিত করা হয়। “রিয়েল হিরো অফ আয়ার সোসাইটি” সম্মানে সম্মানিত করা হয় বিশিষ্ট সমাজসেবী শ্রী প্রশান্ত সামন্তকে।

যিনি মরনোত্তর চক্ষুদান সম্পর্কে সচেতনতার মাধ্যমে ৪০ জন মানুষের চোখের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন।প্রান্তজনের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবিচল কাজ করে যাওয়া ঝর্ণা আচার্য্যকে ও এই সম্মানে সম্মানিত করা হয় । প্রতিবারের মতো এবারের অনুষ্ঠানে সমাজসেবামূলক কর্মসূচি ছিল যথেষ্ট। যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল পদ্মশ্রী পুরস্কারপ্রাপ্ত বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা করিমুল হক এর চোখের বিরল রোগের চিকিৎসা ও কোলাঘাটের রাইন গ্রামের বৃদ্ধাশ্রমের নতুন গৃহের ছাদ নির্মাণের জন্য আর্থিক অনুদান আর জঙ্গল মহলের দত্তক নেওয়া দুটি আদিবাসী অধ্যুসিত গ্রাম ঝর্নাডাঙ্গা ও কুসুমডাঙ্গায় গড়ে তোলা মস্তিকি পাঠশালা , বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের ব্যবস্থা সহ বেশ কয়েকটি কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করে মেদিনীপুর সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। এছাড়াও ক্যুইজ কার্নিভালের অঙ্গ হিসেবে ২রা নভেম্বর সন্ধ্যায় ছিল একটি টক শো । এই আলোচনা সভায় অংশ নেয় লেখক ,গায়ক চন্দ্রিল ভট্টাচার্য, সত্যজিৎ গবেষক দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, বাংলা ব্যান্ডের গায়ক সিধু, লেখক ও কুইজ মাস্টার অভিজিৎ সুকুল। ৩ রা নভেম্বর ছিল একটি সঙ্গীত সন্ধ্যা। যেখানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিখ্যাত ২ বাংলা ব্যান্ডের গায়ক সিধু ও পটা।

 
Likes:
1 0
Views:
67
Article Categories:
Uncategorized

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

PHP Code Snippets Powered By : XYZScripts.com