প্রখ্যাত গায়ক এবং সুরকার রথীজিৎ ভট্টাচার্য র জন্মদিন।

২২ মে, বুধবার, ছিল  প্রখ্যাত গায়ক এবং সুরকার রথীজিৎ ভট্টাচার্য র জন্মদিন।
 শিল্পীর স্ত্রী  ও সহ যোদ্ধা শ্রেয়া ভট্টাচার্য, যিনি নিজেও একজন সুগায়িকা,  এই বিশেষ দিনটি পালন  করলেন  অভিনব ভাবে  । 
  শ্রেয়া  – রথীজিৎ-র সম্পর্ক  দীর্ঘ ১২ বছরের ।  শুধু বর্তমান বছরই নয় , দীর্ঘ  ১২ বছরে প্রতি বছরই  
অভিনব ভাবেই রথীজিৎ-র জন্মদিন আয়োজন করেছে শ্রেয়া। এবছরও  তার অন্যথা হয়নি । 
 অভিনব উপায়ই শ্রেয়া সাজিয়েছিলেন রথীজিৎ-র জন্মদিন। রথীজিৎ-র কাছে এক সারপ্রাইজই  ছিল গোটা বিষয়টি । 
 সকালে  স্থানীয় কিছু ক্লাবের কতৃপক্ষদের হাতে  রাস্তার পশু পাখিদের জল খাওয়ার জন্য ৫0টা  স্ট্যান্ড তুলে দেন  শ্রেয়া ও রথীজিৎ। সমস্তটাই পশু-পাখি প্রেমী রথীজিৎ-র কথা ভেবে পরিকল্পনা করে ছিলেন শ্রেয়া।
আর এখানেই শেষ নয়,   শিল্পীর  মিউজিক স্কুল   “রথীজিৎ ভোক্যাল আর্ট ‘ –র ছাত্র-ছাত্রীরা 
তাদের গুরুর জন্য আয়োজন করে ছিল এক অভিনব সন্ধ্যা ।
এমনিতে আমাদের বছর শুরু হয় জানুয়ারি মাসে কিন্তু “রথীজিৎ ভোক্যাল আর্ট ‘ –র  ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে তাদের বছর শুরু হয় তাদের গুরুর জন্মদিন থেকে। কিন্তু গত এক বছর ‘ সারেগামাপা ‘ ও  অন্যান কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাদের গুরুকে তার ক্লাস ছাড়া কাছে পায়নি সেই ভাবে । তাই গোটা একটা বছর তারা তাদের গুরুকে উপহার দিল নাচে –গানে আর ভালবাসায়। আর এই সমগ্র বিষয় ভাবনার উৎস শ্রেয়া ।
 
রথীজিৎ-র জন্মদিন ভালবসার একটা দিন উদযাপিত হল মহা সমারোহে ।  
 
 
শিল্পী রথীজিৎ-এর আগামী কাজগুলো নিয়ে কিছু কথা
 
শিল্পী রথীজিৎ-এর জন্ম আর বেড়ে ওঠা অসমের করিমগঞ্জ শহরে । বড় হয়ে ওঠার সাথে সাথে সঙ্গীতে তাঁর সহজাত প্রতিভা নজর এড়িয়ে যেতে পারে নি সেখানকার সঙ্গীত বোদ্ধাদের । খুব অল্প বয়সেই সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে সুনাম কুড়ান তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর শিল্পী স্বত্বা তাঁকে টেনে আনে এই কোলকাতার মাটিতে , আরও বড় হওয়ার স্বপ্ন তখন তাঁর দুচোখ জুড়ে ।
 
কোলকাতাতে কিছুদিন কাটানোর পর হঠাত করে এক সুযোগ এসে যায় তাঁর সামনে। জী বাংলায় অনুষ্ঠিত রিয়েলিটি শো ‘ সারেগামাপা ‘ তে অংশ নিয়ে সেকেন্ড রানার আপ হিসেবে সঙ্গীত প্রেমী মানুষের নজর কেড়ে নেন তিনি। এর পর থেকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয় নি ওনাকে । অনায়াসে পেরিয়ে গেছেন একের পর এক সাফল্যের ধাপ ।
 
২০১১ সালে রিলিজ হয় মিউজিক ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর প্রথম ছবি ‘ ফাইট ১ঃ১ ‘ ।তাপস পাল এবং শতাব্দী রায়ের অভিনীত সেই ছবিতে তাঁর সুরে গানগুলো গেয়েছিলেন কৈলাস খের , সোহম , অভিজিত , রূপম ইসলাম , অন্বেষা এবং উজ্জয়িনীর মত শিল্পীরা । এরপর ২০১২ তে জী বাংলার ট্যালেন্ট শো ‘ সারেগামাপা ‘ তে তিনি গ্রুমার হিসেবে কাজ শুরু করেন , সেখানেও তাঁর প্রতিভা কথা বলে প্রতিবারের মতই।
 
এরপর মিঠুন চক্রবর্তী অভিনীত , দেবাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ‘ নকশাল ‘ এ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ডিরেক্টরের কাজ করেন তিনি। গুলজার সাহেবের পোয়েট্রি অ্যালবাম ‘ টাপুর টুপুর ‘ এ শান্তনু মৈত্রের সহকারী হিসেবেও কাজ করেন তিনি।
 
সঙ্গীত নিয়ে নানারকম কাজ করার ফাঁকে ‘ রথীজিৎ ভোক্যাল আর্ট ‘ নামে একটি মিউজিক স্কুল  শুরু করেন ত, এবং সেখানেও সমান পারদর্শিতার প্রমাণ রাখেন। দীর্ঘ ছ বছরে কত যে প্রতিভাধর সঙ্গীত শিল্পীদের জন্ম হয়েছে তাঁরই হাতে , তার ইয়ত্তা নেই। ছাত্র ছাত্রীরা যেমন তাঁকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে , ভক্তি করে , ঠিক তেমন তিনিও তাঁর ছাত্র ছাত্রীদের পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন , সব সময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন , তাদের এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।  
 
Likes:
0 1
Views:
58
Article Categories:
Uncategorized

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

PHP Code Snippets Powered By : XYZScripts.com